আজ পর্যন্ত নানারকম বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি,চেষ্টা করেছি অজানা তথ্যের সন্ধানকে যতটা সম্ভব বহুমুখী করার।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যার নামকরণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অনেক না জানা ইতিহাস।অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আমরা প্রায় রোজ যাওয়া আসা করি ,কিন্তু সেখানকার নামটা ওরকম কেন হল আমরা কি কখনও ভেবে দেখি?
আজ আমরা যেই জায়গার ইতিহাস নিয়ে জানবো সেটি হল পাথুরিয়াঘাটা। উত্তর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বনেদীপাড়া হিসেবে পরিচিত । ঢিলছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে ঠাকুরবাড়ী । এই অঞ্চলটি শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় তাদের ব্যবসার পক্ষে মোটেই সুবিধাজনক ছিল না।তাই তাঁরা আবেদন করেন শহরের বাইরে ঘেরাটোপের মধ্যে যেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় ।পতিতা উদ্ধারিনী সভার সভাপতি রাজা নবকৃষ্ণ এই আবেদনে সাড়া দিলেন। আপত্তি উঠল এক শ্রেণীর পণ্ডিতদের মধ্যে। তাঁরা আশঙ্কা করলেন পতিতাদের শহরের বাইরে চালান করলে রোগ ছড়াবে সর্বত্র,তার চেয়ে বরং তারা এখন যেভাবে আছে সেরকমই থাক।
তৎকালীন নগরপাল বিধান দিলেন,পতিতারা পাড়ার মধ্যেই থাকবে। ঠিক হল পতিত বাড়ির বাইরে থাকবে পাথর ,এতে পায়ের ছাপ পড়বে না।বাকি অন্যান্য বাড়ির সামনে টা থাকবে কাঁচা।সেই থেকে অঞ্চলটার নাম হয়ে গেল পাথুরিয়াঘাটা।
পৌরাণিক অহল্যা ছিলেন প্রস্তরীভূত, শ্রীরামচন্দ্রের পবিত্র পাদস্পর্শে অহল্যার মুক্তি ঘটে।
পতিতারা অহল্যার পূজা করেন। পতিতাগৃহের বাইরে তাই পাথর থাকা সুলক্ষণ বলে গণ্য করা হত। তখনকার দিনে দুর্গাপ্রতিমা তৈরীতে ব্যবহৃত পতিতালয়ের মৃত্তিকা এখান থেকে সরবারহ করা হত।

Users Today : 18
Users Yesterday : 15
Users Last 30 days : 656
Users This Year : 5963
Total Users : 43547
Views Last 30 days : 1239
Total views : 101195
Who's Online : 0




