পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পুজোরী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে।
সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন।
ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না। এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি বৌ-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন।
তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তারা চেয়ে যাচ্ছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন।
পুরাণ অনুসারে চন্দ্র বংশীয় রাজা সুরথ বসন্তকালে দেবী দুর্গার পুজোর প্রচলন করেন। আর রামায়ণ অনুসারে সীতাকে উদ্ধারের জন্য লংকা জয় করতে যাওয়ার আগে শরত্কালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। সেই সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন চলায় দেব-দেবীরা নিদ্রায় থাকেন। অকালে দেবীর আরাধনা করার জন্য শারদীয়া দুর্গা পুজো অকাল বোধন হিসেবে পরিচিত।





Users Today : 10
Users Yesterday : 18
Users Last 30 days : 603
Users This Year : 3694
Total Users : 41278
Views Last 30 days : 1257
Total views : 96623
Who's Online : 0




